Bangladesh's 'Nirvik' To Set For Mars

বাংলাদেশের নির্ভীক যাবে মঙ্গলে! শুনে কিছুটা অবাক হলেন ? কিন্তু এমনটিই হতে যাচ্ছে , এই নির্ভীক কিন্তু কোনো ব্যক্তি নয়, বরং একটি ড্রোন।

ধরা যাক, ২০৩৫ এর কথা। বিজ্ঞানীদের কাছে খবর এসেছে—মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর এই খবর পাঠিয়েছে লাল গ্রহটির বুকে ভেসে বেড়ানো ড্রোন—নির্ভীক। বাংলাদেশের টিম ইন্টারপ্ল্যানেটার এই ড্রোনের নির্মাতা। শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও নামগুলো ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ নেওয়া।

প্রতিযোগিতার বিষয় ও অংশগ্রহণ

সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত ‘মার্স সোসাইটি সাউথ এশিয়া’র একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল অংশগ্রহণ করে থেকে। সারা বিশ্ব থেকে প্রায় ২৬ টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে থাকে। বিশ্বের নানা দেশের ৩০ টি দল এতে অংশ নেয়। বুয়েটের দলটির নাম ইন্টারপ্লানেটার। সেই আয়োজনে ৮ম স্থান দখল করে বুয়েট। এরপরই ৯ম স্থানে আছে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, আর ১৬ তম স্থানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

এই প্রতিযোগিতাটি মূলত মার্স সোসাইটি সাউথ এশিয়া আয়োজিত আইপিএএস চ্যালেঞ্জ। ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যানেটারি অ্যারিয়াল সিস্টেম চ্যালেঞ্জ—আইপিএএস মূলত বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত ড্রোন তৈরির প্রতিযোগিতা।

এ বছরের মূল বিষয় ছিল ‘প্রোপেলিং এক্সপ্লোরেশন’ অর্থাৎ উদ্ভাবনে গতি আনা। এমন ড্রোন তৈরির চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয় যা মঙ্গল গ্রহে গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে। কম্পিউটারের বিভিন্ন সিমুলেশনের সাহায্যে পরীক্ষিত নকশার ওপরে বানানো প্রতিবেদন জমা দিতে হয় তাঁদের।

টিম ইন্টারপ্ল্যানেটার নির্ভীক

এই প্রতিযোগিতায় সেরা ১০ দলের তালিকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) টিম ইন্টারপ্ল্যানেটার দল আছে অষ্টম স্থানে। অষ্টম হলেও উদ্ভাবনে ‘সেরা’ খেতাব পেয়েছে টিম ইন্টারপ্ল্যানেটার। তাদের ড্রোনে থাকা এক বিশেষ ‘গ্যাস কম্প্রেসন সিস্টেম’ নজর কেড়েছে বিচারকদের।

বিজয়ী প্রতিযোগীরা বলেন , রিসার্চ করে সহজেই ড্রোন বানানো যায় কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় ড্রোন বানানোই শুধু একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না বরং সেটিকে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যেতে হবে।

এই ক্ষেত্রে যেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয়েছে তা হলো ড্রোনটা পৃথিবীর জন্য না, পৃথিবীর বাইরের মঙ্গলগ্রহের উপযোগী করে বানাতে হয় তখন সেটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন অনেক বেশি আলাদা হয়ে যায়। অনেক বেশি কমপ্লেক্স হয়ে যায়।

টিম ইন্টারপ্ল্যানেটার

বুয়েটের ইন্টারপ্ল্যানেটার দলে ছিলেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল বিভাগের খন্দকার শিহাবুল হক, মো. রাসুল খান, কুশল রায়; যন্ত্রকৌশল বিভাগের নাজীব চৌধুরী, নাফিজ ইমতিয়াজ, রাফি বিন দস্তগীর, স্বরূপ চন্দ, অপূর্ব সরকার, মিসফাকুর রহমান, সৈয়দ তাওসিফ ইসলাম, মো. আমিন হক, অজয় কুমার সরকার, ইন্তেসার জাওয়াদ জায়গীরদার, ইয়ামিনুল হক, ইমন রায়, ফারসিয়া কাওসার চৌধুরী, এম আবরার মুহিত, আর কে বি এম রিজমি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এস এম সাকিফ সানি।

ড্রোন নিয়েই কেন গবেষণা ?

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে নাসার নতুন রোভার পারসিভারেন্স পাঠানো হয় মঙ্গল গ্রহে। যার সঙ্গে পাঠানো হয় একটি ড্রোন—ইনজিনুইটি। মঙ্গল গ্রহের রুক্ষ আবহাওয়ায় মাটিতে ঘুরে ঘুরে অভিযান পরিচালনার সময় বাঁচাতে এমন ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে নাসা। তাই সারা বিশ্বই এখনো এমন গবেষণাধর্মী ড্রোন তৈরি করার চেষ্টা করছে। আইপিএএস চ্যালেঞ্জে মূলত ইনজিনুইটি থেকে আরও উন্নত মানের ড্রোন তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়।

কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল?

মঙ্গল গ্রহের তাপমাত্রায় থাকে -৮০ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে মাইনাস -১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। মানে এত ঠান্ডা অঞ্চল যেখানে মানুষের বসবাস করা অনেক অনুপযোগী হয়ে যায় এবং পৃথিবীতে যেসব ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট গুলো চলে, এগুলো মঙ্গল গ্রহে চালানো সম্ভব হয় না। কারণ এগুলো গরম রাখা সম্ভব নয়। এটা ছিল একটা চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, মঙ্গল গ্রহের যে বাতাসের যে লেয়ার-এটা পৃথিবীর চাইতে অনেক পাতলা। এ যেমন অভিকর্ষ বল, আমরা যে কারণে মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি। সেটা মঙ্গল গ্রহে অনেক কম। তো মঙ্গল গ্রহের জন্য ড্রোন ডিজাইন করতে গিয়ে তাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমন একটা সিস্টেম ডিজাইন করা যেটা মার্চে কাজ করতে পারবে এবং ১০ মিনিট পর্যন্ত ড্রোনটাকে বাতাসে উরাতে পারবে। এটা ছিল আমাদের চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জটা কিছুটা কঠিন ছিল। কারণ ড্রোনকে ১০ মিনিট তাও আবার মঙ্গল গ্রহে ওড়ানো। এটা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার ছিল।

এখানেই শেষ?

ড্রোন এর আগেও বানিয়েছেন এদেশের শিক্ষার্থীরা। তবে মঙ্গলে পাঠানোর মতো ড্রোন এবারই প্রথম। নির্ভীক বানানোর জ্ঞান কাজে লাগবে দেশের অন্যান্য সেক্টরেও। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের দলটি এখন এ বছরের ইউরোপীয় রোভার চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তি কিন্তু শুধু ভিনগ্রহে অভিযানের জন্য নয়। আমাদের দেশের দুর্যোগকালীন অবস্থায় খাদ্য সরবরাহ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে পথ দেখানো, উদ্ধার অভিযান চালানো, বিভিন্ন নিরাপত্তা মিশন পরিচালনা—এমন নানা কাজে ড্রোনের ব্যবহার হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানাতে উৎপাদনের মাত্রা বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে রোবটিকস প্রযুক্তি। এসব ক্ষেত্রে আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে।

#TECHBYTE1.0
#sociisticgadgets

Sociistic Gadgets

7 Likes