ক্রিপ্টোকারেন্সি কি, কেন, কিভাবে!

ক্রিপ্টোকারেন্সি

ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো ভার্চুয়াল মূদ্রা।যার বাহ্যিক কোন অস্তিত্ব নেই।যেমন আমরা টাকা আদান প্রদান করি।এটা হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়৷ ক্রিপ্টো তেমন না।এটা পিয়ার টু পিয়ার অর্থাৎ একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে পৌঁছে তৃতীয় কারও হস্তক্ষেপ ছাড়া।তাই সাধারণ ব্যাংকিং লেনদেন থেকে ক্রিপ্টো লেনদেন অনেক সিকিউর।এর দাম উঠানামার ক্ষেত্রে বিশ্বের কোন রাষ্ট্র বা সরকারের হস্তক্ষেপ নেই।তাই বিশ্বের অনেক দেশেই ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন নিষিদ্ধ।

ব্লকচেইন প্রযুক্তিঃ

প্রতিটি কয়েনের বৈধতা নির্ণয় করে ব্লকচেইন।সহজভাবে বলতে গেলে ব্লকচেইন হলো প্রতিনিয়ত যতো ক্রিপ্টো ট্রানজেকশন হচ্ছে তার তথ্য সংরক্ষণের জায়গা।এই তথ্যের রেকর্ডকে বলা হয় ব্লক।প্রতিটি ব্লক ‘ক্রিপ্টোগ্রাফি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত এবং পূর্ববর্তী ব্লকের লিংক হিসেবে একটি হ্যাশ পয়েন্টার,টাইম স্ট্যাম্প ও ট্রানজেকশন ডাটা থাকে।
ব্লকচেইনে একবার ট্রানজেকশনের পূর্ণ তথ্য রেকর্ড হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করার কোন পন্থা নেই।যখন খুশি হ্যাশ বা এড্রেস দিয়ে সার্চ দিলে সে তথ্য দেখা যায়।

ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রকারভেদঃ

ক্রিপ্টোকারেন্সির মুল বলা যায় বিটকয়েনকে। আর অন্যান্য টোকেন,কয়েন, ডিজিটাল এসেট যেগুলো বিটকয়েন নয় সেগুলোকে বলা হয় অল্টারনেটিভ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা 'আল্ট কয়েন।বিটকয়েন প্রাইস উঠানামার সাথে এসকল আল্ট কয়েনের প্রাইসও উঠানামা করে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণঃ

আমরা যেমন টাকা নিজেদের ওয়ালেটে রাখি তেমনি ক্রিপ্টো রাখার জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ওয়ালেট।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কয়েনবেস,ট্রাস্ট ওয়ালেট,মেটামাস্ক,ব্লকচেইন ইত্যাদি।এসব ওয়ালেটে আমরা বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ করতে পারি।প্রয়োজনে নিজেদের এড্রেস দিয়ে সেন্ড বা রিসিভও করতে পারি।ক্রিপ্টো এড্রেসগুলো দেখতে খুবই জটিল মনে হয়।তবে প্রতিটি এড্রেসই ইউনিক।

ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে আর্নিংঃ

শুরুতেই বলে নেয়া ভালো যে,আমাদের দেশে ক্রিপ্টো লেনদেন নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র শেখার আর জানার জন্য বিষয়গুলি তুলে ধরা।ক্রিপ্টো থেকে ভালো পরিমান আর্নিং সম্ভব।শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে, আমাদের গতানুগতিক জবের মাসিক সেলারি থেকেও মাসে দ্বিগুন বা তার চেয়েও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে আর্নিং সম্ভব।তবে এর জন্যে যথেষ্ট ধৈর্য্য,অর্থ আর এ বিষয়ে অনেক জানা থাকতে হবে।

ক্রিপ্টো থেকে আর্নিং করার কিছু মাধ্যম এখানে বলছি,

ট্রেডিংঃ
ট্রেডিং হলো লেনদেন করা।সহজভাবে বললে অল্প দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করা।এর জন্যে রয়েছে অনেক এক্সচেঞ্জার। যেখানে ক্রিপ্টো বাই-সেল করা যায়।উল্লেখযোগ্য কিছু এক্সচেঞ্জার হলো বাইনেন্স,কু কয়েন,কয়েনবেস,বিস্ক ইত্যাদি।এরকম আরও অনেক এক্সচেন্জার রয়েছে যেখানে ফিয়াটকে কয়েনে এক্সচেন্জ করে ট্রেড করা পসিবল।

মাইনিংঃ

ক্রিপ্টো মাইনিং করেও আর্ন করা সম্ভব।উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই মাইনিং ফার্ম গড়ে উঠেছে।মাইনিং হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্রিপ্টো লেনদেন যাচাই করা হয় এবং তথ্য ব্লকচেইনে যুক্ত হয়।প্রতিটি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করার সময় লেনদেনের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং লেনদেনের সাথে যুক্ত ব্লকচেইন লেজার আপডেট করার জন্য একটি মাইনিং প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।এই প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে জটিল গানিতিক সমস্যা সমাধান করতে হয়।এই সমস্যা সমাধানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যাক্তি বা কম্পিউটারকে সাধারণত মাইনার বলা হয়।এই জটিল গানিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য মাইনারদের রিওয়ার্ড দেয়া হয়।প্রতিটা লেনদেনে যে নির্দিষ্ট ফি থাকে তা তারাই পেয়ে থাকে।

এয়ারড্রপঃ
এয়ারড্রপ থেকে কোন ইনভেস্ট ছাড়া ভালো পরিমান আর্নিং সম্ভব।এয়ারড্রপ হচ্ছে ‘ফ্রি ক্রিপ্টো টোকেন’।বিভিন্ন ক্রিপ্টো কারেন্সি লঞ্চ হচ্ছে প্রতিদিন। এর সোস্যাল প্রমোশনের কাজ করে সেখান থেকে কয়েন আর্ন করা যায়।যা পরবর্তীতে বিভিন্ন এক্সেন্জারে সেল করে টাকা নেয়া যায়।আরও বিস্তারিত বলতে গেলে,
বিভিন্ন কম্পানি তাদের ক্রিপ্টোকয়েনের প্রচারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কয়েন বরাদ্দ রাখে।যখন আমরা তাদের প্রযেক্ট বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে তাদের পরিচিতি বাড়ানোর কাজ করি সেজন্য তারা আমাদের ফ্রিতে তাদের কিছু কয়েন দিয়ে থাকে।এর জন্য তাদের সোশ্যাল একাউন্ট ফলো করা।সেগুলোতে লাইক, কমেন্ট করা,বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা এরকম অনেক ধরনের কাজ দিয়ে থাকে।এ কাজগুলো করার মাধ্যমে আমরা তাদের রেপুটেশন বাড়িয়ে দিচ্ছি।তাদের প্রজেক্ট ইনভেস্টরদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।তাদের কয়েনের ভ্যালু বাড়ছে।সাথে আমরাও লাভবান হচ্ছি।

#TECHBYTE1.0
#sociisticgadgets

Sociistic Gadgets

9 Likes